
সিলেটের কানাইঘাটের রাজাগঞ্জে যৌতুকের জন্য গোলাপগঞ্জের মেয়েকে নির্যাতনের মামলায় আসামী স্বামী কামিল আহমদকে খুঁজছে পুলিশ পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই মামলার অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেছে পুলিশ। পলাতক এই আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট বিয়ে হয় বাঘা ইউনিয়নের মেয়ে সুমি বেগমের সাথে কানাইঘাট থানার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের মইনা গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে কামিল আহমদ (২৩) এর সাথে। বিয়ের পর থেকেই কামিল আহমদ বিভিন্ন ভাবে সুমি বেগমকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি সকাল ৬টার দিকে কামিল উদ্দিন সুমি বেগমকে তার পিতার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য বলেন। এতে সুমি বেগম অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে কামিল উদ্দিন তার স্ত্রীর উপর লোহার রড দিয়ে মাথার ডান পাশে হামলা করেন। এসময় কামিলের পিতা কালা মিয়া (৫৫) ও ভাই কিবরিয়া আহমদও কিল-ঘুষি মারেন। এ ঘটনায় আহত সুমি বেগম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (মামলা নং-৮৬/২০২৪ইং) দায়ের করেন। এই মামলায় স্বামী কামিল আহমদ সহ তার পিতা কালা মিয়া ও ভাই কিবরিয়া আহমদকেও আসামী করা হয়।
এই মামলায় কানাইঘাট থানা পুলিশ চার্জশীট দায়ের করে এবং আদালত আসামী কামিল আহমদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এই মামলায় আসামী কামিল আহমদ এখনো পলাতক রয়েছে।
ভিকটিম সুমি জানান, আমার স্বামী কামিল আহমদ বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। আমি জানতে পেরেছি সে ঢাকায় পালিয়ে আছে। লোক মুখে শুনেছি সে নাকি আমার অনুমতি ছাড়াই নতুন একটা বিয়েও করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার ও এই আসামীকে গ্রেপ্তার করতে দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে সুমির পরিবারের পক্ষ থেকে আসামী কামিলকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। তারা জানান, কেউ যদি কামিলের খুঁজ দিয়ে তাকে ধরিয়ে দেন তাহলে তাকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হবে। তথ্য দিতে যোগাযোগ 09638923396 এই নাম্বারে।